মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

বাইডেনের চ্যালেঞ্জিং এক বছর

করোনা মহামারি, আফগানিস্তান ইস্যু, এবং অর্থনেতিক মন্দাসহ নানারকম চ্যালেঞ্জের মুখে এক বছর পার করলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রত্যাশা অনেক থাকলেও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যায়, বাইডেনের ব্যাপারে মার্কিন ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাস ধরেই ৪০ ভাগের কোটায় রয়েছে।

করোনা মহামারির সংক্রমণে যখন নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, ঠিক তখনই করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেন জো বাইডেন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের শাসনামল। ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টিকার ডোজ দেয়ার পরিকলপনা জানান বাইডেন। আড়াই মাসের মাথায় সেই লক্ষ্যপূরণ করে তার প্রশাসন।

তবে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বাইডেনের জনপ্রিয়তায় ভাটা পরে। আফগানিস্তান ছাড়ার সময় দেশটিতে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তাতে সমালোচনার বিশ্বব্যাপী মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।

শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারো বিশ্ব নেতৃত্বে শক্ত অবস্থানে ফেরানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন বাইডেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে প্রত্যাবর্তন এবং ইরানের সাথে আবারো পরমাণু আলোচনা শুরুর পদক্ষেপ, সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে মত বিশ্লেষকদের।

ক্ষমতায় আসার পরই সবচেয়ে পুরোনো ও ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপ, সামরিক জোট ন্যাটো এবং এশিয়ার সাথে সম্পর্কোন্নয়নে জোর দেন বাইডেন। নতুন মাত্রা পায় চীনবিরোধী নীতি। ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সাথেও বেড়েছে উত্তেজনা।

আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি মার্কিনদের আসক্তি কমানো এবং পুলিশের বর্বরতা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন বাইডেন। এছাড়া, ভোটাধিকার সংস্কার ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য রোধে ভোটাধিকার আইন সংস্কারের কথাও জানান তিনি। তবে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার মুখে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না বাইডেন।

আলোচনায় আছে বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক মন্দা রোধে বাইডেনের ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা। তবে বাইডেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি। ডিসেম্বরে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি পোঁছায় ৭ শতাংশে, যা ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com